বিশেষ টিপ্পনী: এই রচনার সঙ্গে বাস্তবের কোনো ঘটনা বা চরিত্রের বা নামের মিল থাকলে সেটি একান্তই অনিচ্ছাকৃত বা কাকতালীয়. এমনকি এর সঙ্গে কেউ হীরক রাজার সাদৃশ্য খুঁজে পেলেও সেটা তাঁর ব্যক্তিগত মত.
যবনিকা উত্তোলন.
নমস্কার দর্শকবৃন্দ. আজ আমাদের সঙ্গে আছেন বঙ্গদেশের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মহম্মদ বিন তুঘলক...,থুড়ি, বাংলার অগ্নিকন্যা ওরফে আমাদের সকলের প্রিয় দিদি. দিদি আমাদের শো আক্কেল গুড়ুমে আপনাকে স্বাগত জানাই. আরে দিদি আপনি যে আপনার সাঙ্গপাঙ্গদেরও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন.
নমস্কার. হ্যাঁ দেখুন আমি আবার একলা ঘুরতে যেতে ভালবাসি না. ওই দেখুন মদনা মুকুল পার্থ কেষ্টা অমিতদা তাপস ববি এদেরও নিয়ে এসেছি. ওরা আমি যা বলব তাতে সাপোর্ট করবে. ইন্দ্রনীল ও আছে একটু গানবাজনা ও হবে. দেব আছে ডিসকো নেচে দেবে. শুভাদা আছে ছবি টবি তুলবে বা আঁকবে জানিনা. ভাইপো অভিষেক এসেছে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে, এখনও রাজনীতিতে শিশু কিনা. আর আছে শ্রীকান্ত আপনার শো টা produce করে দেবে. ব্যস শো আপনার সুপারহিট হবেই হবে. শুধু শাহরুখ আর হৃতিক কে আনতে পারলাম না কারণ ওদের কাছে আমার মতো এতো ফ্রী টাইম নেই. যাক গে এই উৎসবের জন্য আমি আমাদের ক্লাব তহবিল থেকে প্রথমেই আপনাদের ৫ লাখ টাকা দান করতে চাই, কারণ আপনারা আমাকে ডেকে এনেছেন. এই মদনা চেক বইটা বের করতো. এই এই সবাই হাততালি দিন তো.
(মদনা জনান্তিকে) কিন্তু দিদি এটা তো কোনো উৎসব নয়. আর তাছাড়া পার্টি ফান্ড ও একদম জিরো. কাল সালা আমার মাল খাবার ও টাকা নেই.
(দিদি জনান্তিকে) সেকিরে সুদীপ্ত যে অতোগুলো টাকা দিল সেগুলো সব গেল কোথায় ?
সবই তো নিজেদের পকেটে ঢুকিয়েছি. আর কিছু ভোটে দান করা হয়েছে বিভিন্ন ক্লাব এ গুন্ডা প্রকল্পে. ভোটের সময় এরাই কাজে আসে কিনা.
ঠিক আছে তাহলে আমাদের ছাপ্পাশ্রী প্রকল্প থেকে দিয়ে দে এখন, পরে কেন্দ্র থেকে টাকা দেয়নি বলে দিলেই হবে খন. তুই চেক টা লিখে ফেল নইলে আনন্দবাজারে আবার কিছু কুৎসা ছাপিয়ে দেবে যে আমি কথা দিয়ে কথা রাখিনা.
(প্রশ্নকর্তা) দিদি তাহলে এবারে আমরা ইন্টারভিউটা শুরু করি ?
আরে একটু দাঁড়ান না মশাই. হ্যাঁ মদনা দেতো চেকবইটা. পরে আমি একটু ডেলো পাহাড় এ গিয়ে প্রকৃতি দেখে কয়েকটা আঁচড় কেটে দেব, ওগুলো তুই olx এ বেচে দিস, এখানে আমার ছবি কেনার মতো আরো অনেক পাবলিক আছে, ওরা ঠিক কিনবেই, তোর মাল খাবার টাকাও উঠে যাবে.
হ্যাঁ মশাই এবারে শুরু করুন আপনার প্রশ্ন বিচিত্রা.
ধন্যবাদ দিদি. প্রথম প্রশ্ন. একদম শুরু থেকে শুরু করা যাক. আপনি তো নিজে রাজনীতি করা শুরু করেছেন বহু বছর আগে. কিভাবে রাজনীতিতে আসার কথা ভাবলেন?
এটা একটা খুব ভালো প্রশ্ন. ঠিক কথা, আমার এতো বহুমুখী প্রতিভা যে কোথায় যাব ঠিক করতে বেশ প্রবলেমই হয়েছিল প্রথমে. কিন্তু ওই কপাল. আরে রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ,সত্যজিত রায় এদেরও যেমন কপালে যা লেখা ছিলো তাই হয়েছেন আমারও তেমনি.
(প্রশ্নকর্তা বিষম খেয়ে) বুঝলাম. তা বিজেপি বা কংগ্রেসের সঙ্গে ত আপনার ভালই আঁতাত ছিল প্রথমে. হঠাৎ নিজের পার্টি বানালেন কেনো?
ধুর ওরা আমার ট্যালেন্টকে চিনলোই না. আমি জন্মগত লিডার. আমাকে বলে রেলমন্ত্রী হতে. দিলাম ছেড়ে. ফালতু কাজ না করে এখন আমি মুখ্যমন্ত্রী. কারোর দাসত্ব আমি করতে পারবনা. সবার উপরে লিডার সত্য এরকম কি একটা কথা ছিল না?? (অডিয়েন্স থেকে চাপা হাসির আওয়াজ আসলো)
কিন্তু তারপরেও ত আপনি রেল মন্ত্রী হয়েছিলেন?
আরে মশাই এটুকুও বুঝলেন না?? তখন আমার একটা চাকরির দরকার ছিল হাতে টাকাকড়ি কিছুই নেই. কিন্তু তখন চাকরির মার্কেট খুব খারাপ. তাই যা পেয়েছি তাই নিয়েছি. তারপর যখন প্রমোশন হলো তখন ওটা দীনেশকে ছেড়ে দিলাম.
কিন্তু দীনেশকেও সরালেন কেনো? উনি তো ভালই কাজ করছিলেন.
ভালো কাজ আমি যদি বলি ভালো তবেই ভালো. দীনেশ বেটা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছিল. রেল ডুবলে ডুবুক কিন্তু আমার ভোটে টান পড়া চলবে না. বুঝলেন কিনা এভাবেই করেকম্মে খেতে হয়. আর তাছাড়া মুকুলটাও খুব ধরেছিল. বাড়িতে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকত. মায়া হলো.
কিন্তু আপনার ঘোষণা করা এতো প্রকল্প কিছুই তো বাস্তবায়িত হয়নি.
কি আর করা যাবে. আমি থাকলে ঠিক বানাতাম কিন্তু আমি থাকবনা বলেই তো ঘোষণা করেছিলাম. সব পলিটিক্স. আপনি বুঝবেন না. এখন আমরাই বলি যে কেন্দ্রীয় সরকার করতে দিচ্ছেনা. আরে মুকুল বলনা.
মুকুল ঝিমুচ্ছেলেন. হঠাৎ টাল সামলাতে না পেরে চেয়ার থেকে পড়ে গেলেন. পেছন থেকে 'ধর ধর' আওয়াজ আসলো. সেই অবস্থাতেই মুকুল বললেন: হ্যাঁ হ্যাঁ একদম ঠিক.
তখনই কি সুদীপ্ত সেনের সাথে যোগাযোগ?
লোকটা খুব দুঃখী ছিলো. নতুন ব্যবসা ভালো চলছিলো না. মনটা কেঁদে উঠলো আমার মা সারদার মতো. অদ্ভুত ভাবে ওর কোম্পানির নামও সারদা. কি যোগাযোগ. মদনা বললো ওর নাকি চেনা আর ভালো টাকা কড়ি দেয়.
আপনি যখন বিরোধী পক্ষে ছিলেন তখন স্বাভাবিক ভাবেই সরকারের খুব বিরোধিতা করেছেন. কিন্তু তৎকালীন সরকার ভালো কিছু করলেও আপনি বিরোধিতা করেছেন.
প্রচারের আলোয় থাকতে হবে তো নাকি.আর এখানে লোকজনের ব্রেনওয়াশ করা খুবই সোজা. কিন্তু পাস্ট ইজ পাস্ট. বর্তমানে ফিরে আসুন আপনি এবারে.
ওকে. আপনি তখন এতো বন্ধ্ ডাকতেন আর এখন কেন বলেন যে বন্ধ্ ডাকা খারাপ?
তখন তো আমাদের কেউ চিনত না. তাই আমরা ভেবেছিলাম বন্ধ্ ডাকার ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করব যাতে লোকে আমাদের চিনতে পারে. আর এখন সবাই তো আমাদের চিনেই গেছে তাই...
আপনি তখন কারুর গরু চুরি গেলেও বলতেন CBI চাই. আর এখন কিছুতেই তাদের রাজ্যে ঢুকতে দিতে চান না.
ওরা বলেছে বেশি বিরক্ত করলে আমার বাড়ির সামনে ওই গরু গুলোকে ছেড়ে দিয়ে যাবে. তাই ওদের আর বিরক্ত করিনা. গরুর গুঁতুনিতে আমার খুব ভয়.
দু মিনিটের বিজ্ঞাপন বিরতি.
ফিরে এলাম বিরতির পর. আচ্ছা দিদি চার বছর আগে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন কিন্তু আপনার কি মনে হয় এই চার বছরে আপনাদের কাজেকর্মে জনগণ খুশী?
এতক্ষণ ভেবে কি প্রশ্ন টাই না কোল্লেন মশাই. খুশি নয় কি দুঃখী নাকি?কী বলে রে এটা?আরে পাবলিক এর সব কাজ করে দিয়েছি অলরেডি, কিছুই বাকি নেই আর.
বলেন কী ? সব কাজ শেষ?
নয়তো কি ? কাজ নেই বলেই তো মদনা টা খালি মাল খায় আর মুকুল টা ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ায়. কিই বা করবে আর. আহা রে. প্রচুর পরিশ্রম করেছে ওরা সুদীপ্তর সঙ্গে.
কিন্তু এই যে এত সমস্যা তে জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গ - মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি....
এ সব রাজ্য সরকারের দায়িত্ব নয়. এগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপার. অামরা তো ভালো হোক মন্দ হোক সবসময় কেন্দ্রের বিরোধিতা করেই চলি, এটাতেও করছি. পলিটিকাল মাইলেজ নেওয়া যায় ভালই.
কিন্তু এই যে শিল্প আসছেনা সে ব্যাপারে আপনি কিছু বলবেন কি?
শিল্প আসছেনা মানে? শিল্পের রমরমা মশাই এখানে. দাঁড়ান খাঁটি তথ্য দিচ্ছি. এটা অমিতদা দেখে. ও অমিতদা একটু বলে দাওতো এদের. (অমিতদা উঠে দাঁড়িয়ে পকেট হাতড়াতে শুরু করেছেন). আরে ওই যে তোমাকে যে লেখা টা মুখস্থ করালাম কাল বিকেলে ওটাই পড়ে দাও. জানতাম এঁরা ঠিক প্রসঙ্গটা তুলবেই.
অমিত চোথা বার করে গড়গড় করে পড়তে থাকলেন. বেঙ্গল লীড্স, গ্লোবাল ইণ্ডাস্ট্রি সামিট্, সিঙ্গাপুর ভ্রমণ...
অমিত বাবু এসব ফিরিস্তি সবাই জানেন. কিন্তু কটা শিল্প এল সেটা বলুন,কত টাকার লগ্নি হল , কতগুলো কর্ম সংস্থান হবে এগুলো তো কিছুই নেই আপনার চোথা তে...
আরে আপনার এতো কৌতুহল কেন মশাই. আমি বলছি শিল্প হয়েছে তো হয়েছে.
আচ্ছা ঠিক আছে. কি কি শিল্প হয়েছে একটু বলুন অন্তত.
কিছুই জানে না দেখি. ঐ যে তেলেভাজা চপ ভেলপুরী এগুলো শিল্প নয় নাকি? এ আমাদের পশ্চিম বঙ্গে ছাড়া আর কোথায় পাবেন? কত লোকে এই করেই তিনতলা বাড়ি গাড়ি হাঁকিয়ে দিলো! এটা জাষ্ট একটা উদাহরণ এরকম আরো আছে.
অ্যাঁ??
অ্যাঁ নয় হ্যাঁ. এছাড়া মাটির কাজ হাতের কাজ সবই শিল্প. শিল্প মানে শুধু ইন্ডাস্ট্রি নয় আর্টও হয়. শুভাদা আর আমার ছবিও শিল্প. আমাদের টলিউ ডও শিল্প. না জানলে জেনে নিন.
(প্রশ্নকর্তা ঢক ঢক করে এক গ্লাস জল খেলেন) কিন্তু সিঙ্গুরটা তো কিছুই হলো না.
ওই আপনাদের এক ইস্যু মশাই সিঙ্গুর আর সিঙ্গুর. বলি টাটাবাবু টাটা করে চলে গেলেন আর বাঁশটা খেলাম আমরা. যাই হোক ওখানে আমরা এখন কলা গাছ লাগাব. সিঙ্গাপুর থেকে ভালো সিঙ্গাপুরী কলার বীজ এনেছি আমরা. সেই গাছ থেকে কলা হবে তাতে খাদ্য সমস্যা দূর হবে আর গাছ পাহারা দিতে লোক লাগবে তাতে চাকরি সমস্যাও দূরীভূত হবে. এক ঢিলে দুই পাখি. বুদ্ধিটা আমারই. কিন্তু পার্থ করছে কাজটা. ওই নিজের হাতে করে গাছগুলো লাগাচ্ছে. খুব মোটা হয়ে গেছে তাই ওর একটু ব্যায়াম দরকার.
টাটাবাবুর কথা যখন উঠলোই তখন কিছুদিন আগে শহরে এসে উনি যখন বললেন শিল্প নেই তখন অমিতবাবু আপনি বলেছিলেন ওনার নাকি মতিভ্রম হয়েছে. এ বিষয়ে আপনি কিছু বলবেন অমিতবাবু?
অমিতদা আবার কি বলবে. আসল ঘটনা আমি বলছি. টাটাবাবু আসলে যাচ্ছিলেন গুজরাট. কিন্তু পাইলটের শরীর খারাপ লাগায় এখানে জরুরী অবতরণ হয়. উনি ঘুমাচ্ছিলেন তখন তাই বুঝতে পারেননি কোথায় নেমেছেন. ভাবছিলেন গুজরাটের এরকম হাঁড়ির হাল হলো কি ভাবে. যে গুজরাট আর পশ্চিমবঙ্গ চিনতে পারেনা ঘুমের ঘোরে তার মতিভ্রম ছাড়া আর কি হয়েছে বলা যায় আপনিই বলুন.
হ্যাঁ এই মোক্ষম যুক্তি কে আর খন্ডন করবে. কিন্তু এই যে ইনফোসিস চলে গেলো. আপনি তাদের ট্যাক্স ছাড় দিলেন না...
ওইসব ট্যাক্স ছাড় দেয়া হচ্ছে আগের সরকারের নীতি. আমরা ওদের দেখানো পথে যাব না. আমাদের রাজনীতিক আদর্শ ওঁদের উল্টো, সব বিষয়েই. তাতে রাজ্য ডুবলে ডুববে. আর তাছাড়া এই ভাবেই যখন ভোটে জিতেছি তখন এইভাবেই চলুক না.
সেকি কথা. সঙ্গে এতো কলকারখানা সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে. বেকারত্ব বেড়ে চলেছে...কেন্দ্রের রিপোর্টে পর্যন্ত এসে গেছে.
যত কারখানা বন্ধ হয়েছে সেগুলো সব আগের সরকার খুলেছে. আমাদের কোনো দায়িত্ত্ব নেই ওগুলো বন্ধ হলে. আমাদের খোলা কোনো কারখানা বন্ধ হয়েছে কি? না হয়নি. কারণ আমরা কোনো কলকারখানা নতুন করে খুলিইনি প্রায়. আর বেকার লোকদের জন্যে বলছি আমাদের দলে এসে নাম লেখান. জনগণের ট্যাক্সের পয়সাতে আপনাদের পুরো দায়িত্ব আমরা নেবো.
একটা কথা. আপনাদের জমি অধিগ্রহণ নীতির জন্যেই রাজ্যে ভারী শিল্প আসছেনা নাকি...
কি যে বলেন. আমরা বন্ধ্ ডেকে ডেকে আগের শিল্পগুলোর বারটা বাজিয়ে দিয়েছি আগেই. সেইজন্যই শিল্প আসেনা. এর সঙ্গে আমাদের জমি নীতির কোনো সম্পর্কই নেই. এতো পুরো কুৎসা কি আর বলব!
আচ্ছা এবারে একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসা যাক. পার্ক স্ট্রীট ঘটনায় আপনি উল্টোপাল্টা মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন...
ও. ওটা তখন মনেই ছিলো না আমি অলরেডি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গেছি. (লাজুক হাসি) তখন আমি একদমই ফ্রেশার কিনা.
কিন্তু দময়ন্তি দেবী কে সরালেন কেন?
আমি আমার রাজ্যে কাউকেই এতো কাজ করতে দেব না. কতো হাড়ভাঙা খাটুনিই না খাটলো মেয়েটা কয়েকদিন. তাই ওকে বললাম যা একটু রিলাক্স কর. তাই করছে. কাজ একদম নেই তাই ফ্যামিলির সাথে সময় কাটাতে পারছে প্রচুর. আমাকে দেখা হলেই থ্যাঙ্ক ইউ বলে.
আর কামদুনি কাণ্ডে আপনার ভূমিকা নিয়ে কি বলবেন?
কিসের ভূমিকা?ওখানে আমার তো কোনো ভূমিকাই নেই. বাবাঃ সেই নিয়ে কতো লেখালিখি. কিছু করলেও দোষ আবার কিছু না করলেও.
কিন্তু একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আপনার রাজ্যে মহিলাদের উপর নির্যাতন ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী. সে প্রসঙ্গে কিছু বলবেন কি?
আমি সবেতেই নাম্বার ওয়ান হতে চাই. কিন্তু এখনও উত্তরপ্রদেশ অনেক এগিয়ে এ ব্যাপারে আমাদের থেকে...কি করে ওদের টপকে এগিয়ে যাওয়া যায় তাই ভাবছি.
নারী নির্যাতন নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা গেলো. এবারে আসি আপনার দল প্রসঙ্গে. ঐ যে অনু বাবু পুলিশকে বোমা মারবেন বলেছিলেন?
এ ব্যাপারে একটা সুন্দর ব্যাখ্যা আগেই দিয়েছিলাম আপনি জানেন না মনে হয়. কেষ্টার আসলে একটা ব্যামো আছে. ওর মাথায় অক্সিজেন পৌঁছয় না ঠিক করে. তাই কখনও সখনো ভুলভাল বলে ফেলে. ওগুলো গুরুত্ত্ব না দিলেও হবে.
বলেন কি? এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ লোকের কথায় গুরুত্ব দেব না?তার মানে তো ওনার সব কথাই ভুলভাল. আর এরকম কোনো রোগের কথা তো আমাদের জানা নেই?
তা আপনার জানা নেই বলে কি রোগ হতে পারে না?রোগটা আমিই আবিষ্কার করেছি. এর জন্য আমার নোবেল পাওয়া উচিত ছিল কিন্তু আমি অতো লোভ করিনা. আর তাছাড়া নোবেলটা চুরিও হয়ে গেছে. যাক সে কথা. ওর কথা কোনটা গুরুত্ব দেবেন আর কোনটা দেবেন না সেটা নাহয় আমাকে জিগ্গেস করে নেবেন. আমি জলের মতো বুঝিয়ে দেবো. কিরে কেষ্ট ঠিক আছে তো?
কেষ্টা (কলের পুতুলের মতো):ঠিক ঠিক.
কে একজন পেছন থেকে বলে উঠলো "আরে পুরো হীরক রাজার দেশ মনে হচ্ছে"
ওই কেষ্টা দেখতো কে?ব্যাটা নিশ্চয় মাওবাদী. এই চুপ করুন তো মশাই. ভালো হবেনা বলে দিচ্ছি. এই যে পচা (পচনন্দা) ব্যাটাকে জেলে পরো তো.
প্রশ্নকর্তা: ঠিক আছে দিদি ছেড়ে দিন. আমরা প্রসঙ্গে ফিরে আসি. অনু বাবুর ব্যাপারটা বুঝে গেছি. কিন্তু তাপস বাবুর ঘটনায় কিছু বলবেন না?
কি আর বলব. ওর তো গরমে মাথা গরম হয়ে গেছিল. ও ক্ষমা চেয়ে চিঠি দিয়েছে.আর আমি ওকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে দিয়েছি একশ বার.
শুধু এটুকুই? আর কিছু না? উনিতো সাংঘাতিক সব কথা বলেছিলেন..
আরে শুধু বলেছিল করেছে কি? আর এর থেকে বেশি কি করব? একটা ছোট ঘটনা...I kill him?
আচ্ছা এবারে বলুন আপনি নিজেই কিছুদিন আগে বইমেলাতে কোনো এক পুলিশকর্মীকে থাপ্পড় মারবেন বলেছিলেন. কেন?
আমি নিজেই পুলিশমন্ত্রী জানেন তো. তা আমার মন্ত্রকে আমি যা ইচ্ছে তাই বলতে পারি. আর ওই লোকটাকে আমার লেখা বইগুলো পাহারা দিতে বলেছিলাম. ফিরে এসে দেখি লোকটা গরমে গাছের ছায়াতে ঝিমুচ্ছে আর একটা ছাগল এসে আমার লেখা বইগুলো চিবুচ্ছে. চিবুচ্ছে চিবোক কিন্তু আবার থু থু করে ফেলেও দিচ্ছে বইগুলো নাকি এতই অখাদ্য. তাই ওই রোদের ভেতরে খেপে উঠে ছিলাম একটু.
কিন্তু আপনার নিজস্ব এই পুলিশের উপরই অনেকে চড়াও হচ্ছে তাদের আপনি বাচ্চা বলে দিচ্ছেন.আপনার মতে বাচ্চা ছেলে বা মেয়ে কারা?
খুব সহজ. যারা আমার ঘনিষ্ঠ তাদের ছেলে মেয়েরা সবাই বাচ্চা তা তারা যতই বড় ধেড়ে হোক না কেন. ওদের সাত খুন মাফ. আমি আগেই বলেছি আমি সবেতে এক নম্বর হতে চাই. তা স্বজনপোষণে আমি অলরেডি এক নম্বর.
সে আর বলতে হবেনা. আচ্ছা আপনার দলের উপরে তোলাবাজি আর সিন্ডিকেট রাজ কায়েম করার অভিযোগ উঠছে বারেবারে. কিছু বলবেন কী এই নিয়ে?
কিছু কুৎসা পারেন বটে আপনারা. দলের কাছে টাকাকড়ি নেই তাই জনতা আমাদের ভালবেসে দান করেন. জনতার এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসাকে ওই বিশ্রী নাম দেবেন না.
আপনি কিছুদিন আগে সংবাদ পত্র আর টিভি চ্যানেলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন. এর পেছনে কি উদ্দেশ্য ছিল?
কিছুনা. ওরাই সবসময় কুৎসা করে. আমিও সুযোগ পেয়ে তাই দিলাম বাঁশ (সঙ্গে হাতের অঙ্গ ভঙ্গি). যা আমার ভালো লাগবে না তা পুরো রাজ্যে বন্ধ. হুঁ হুঁ বাওয়া এর নাম ক্ষমতা. মানে পাওয়ার. শরদ পাওয়ার নয় কিন্তু.
আর ওই কার্টুন কাণ্ড?
দেখুন মশায় আমার রাজ্যে বাস করে আমার নামে ফালতু কুৎসা করা যাবেনা. এ আমার সাফ কথা.সে যেকোনো মাধ্যমেই হোক না কেনো. করলেই কড়কানি আছে কপালে. আর ওখানে তো আমাকে নাকি খুন করার চক্রান্ত হচ্ছিল. যাদবপুরের প্রফেসর হলেও বাদ যাবেনা. ছাত্র ঠ্যাঙাচ্ছেন ঠ্যাঙান কিন্তু এসব ফন্দিফিকির ভালো নয় মোটেই. উনি মনে হয় cpm করতেন.
সে না হয় হলো, কিন্তু এটা অত্যন্ত একটি বাজে দৃষ্টান্ত হলো নাকি সরকারের পক্ষে?
তাই নাকি? আপনিও মনে হচ্ছে একই পথের পথিক ওঁদের মতো? সত্যি বলুন তো. অ্যাই পচা এদিকে আসো তো.
না না একদমই না. আমি অন্য প্রশ্ন করছি. কিন্তু সরি এটাও যাদবপুর নিয়েই. আপনি বলেছিলেন শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনীতি চলবে না. কিন্তু যাদবপুরের উপাচার্যকে নিয়ে ছাত্র আন্দোলন বন্ধ করতে সেই সরকার আর পুলিশকে নামতেই হলো.
ওইসব পাগলদের কে সামলাবে পুলিশ ছাড়া? বাবা আর একটু হলেই আমার অভি সোনাকেও ওরা মেরেই ফেলতো গো. অভি সোনা আমার ঘরের ছেলে হীরের টুকরো. ও ভুল করতেই পারেনা.
আর যাদবপুর কলেজটা সরকারি. মানে ওটা সরকারের সম্পত্তি. তা আপনি আপনার নিজের সম্পত্তির দেখভাল নিজে করবেন না নাকি অন্য কাউকে দিয়ে করাবেন? কি খ্যাপা রে ভাই!
যথার্থই বলেছেন. কিন্তু আপনার দলের যুবশাখার বিরুদ্ধেও অনেকবার শিক্ষাক্ষেত্রে গোলযোগের অভিযোগ আছে. মায় শিক্ষকদের হুমকি দেওয়া অবধি হয়েছে.
তা বাচ্চারা একটু আধটু দুষ্টুমি করবে না নাকি? তা বলে কি ওদের মারবো নাকি? নিজের বাচ্চারা দুষ্টুমি করলে মারেন নাকি খালি?
ওই ধেড়ে ধেড়ে ছেলেগুলো বাচ্চা?ওদের কোনোরকম শাস্তি হবে না?
আমার কাছে ওরা দুগ্ধপোষ্য শিশুই. আর শাস্তি আবার কি? আমি ওদের সবার কান মুলে দিয়েছি.
অসাধারণ. তাহলে তো ঐ প্রসঙ্গে আলোচনা করা বাতুলতা মাত্র. তাহলে বলুন যে আপনার প্রিয় শ্রীকান্তবাবুকে আপনি নাকি আইনবিরোধী ভাবে lease পাইয়ে দিয়েছেন. তাতে নাকি পুরসভার অনেক লোকসানও হয়েছে?
শ্রীকান্ত অনেকদিন ধরেই একটা ভাল প্রপার্টি খুঁজছিল. ওখানে ও চাঁদের পাহাড়ের সেকেন্ড পার্ট বানাবে. ওখানে দেব আমাজনের জঙ্গলে গিয়ে অনেকটা আমারই অনুপ্রেরণায় আদিবাসীদের উন্নতির জন্যে শপিং মল তৈরি করছে দেখানো হবে. ওই সিনেমা থেকে যা লাভ হবে তার কিছুটা পুরসভাকে দিয়ে দেবো. ওদেরও পুষিয়ে যাবে. সবই তো নিজেদের মধ্যে ব্যাপার. বাড়িটাকে নীলসাদা রংও করানো হবে.
হুম্. এই যে বাড়িতে নীল সাদা রং করলে নাকি পুরকর ছাড় পাওয়া যাবে. এর পিছনে কি লজিক ছিল?
কারণ ওইদুটো আমার প্রিয় রং. শুধু এই কারণেই আমি আর্জেন্টিনাকে সাপোর্ট করি মশাই. তা আমার প্রিয় রং লাগালে পুরস্কার দেবো না? কিন্তু আরো বিশদে এটা ববি বলবে. অনেকক্ষণ ধরে টিভিতে কিছু বলবে বলে ছটফট করছে. বলরে ববি তুই.
ববি সুর করে একটি মুখস্থ ছড়া বলতে লাগলেন. অনেকটা ফাটা রেকর্ডের মতো:
নীল সাদা দিদির প্রিয়
তোমরা সবাই ঘরে লাগিও
পুরকরে মিলবে ছাড়
দিদির হবে জয়জয়কার.
নীল সাদা দিদির প্রিয়......
আচ্ছা থামুন এবারে অনেক হলো.আচ্ছা দিদি আপনি যে বলেছিলেন কলকাতা হবে লন্ডন. তার কি খবর?
এই যে আমি লন্ডন সফরে গেলাম, ভেবেছিলাম লন্ডনকে কলকাতা বানিয়ে তবেই ফিরব আর তখন দুটোই এক হয়ে যাবে. কিন্তু এসে দেখি কলকাতা অলরেডি ভেনিস হয়ে গেছে. ভ্যানিশ না মশাই ভেনিস.
বন্যার ব্যাপারে এই যে আপনি বল্লেন যে সরকার ছাড়া কেউ ত্রাণ বিলি করতে পারবেনা. এরকম কেন?
অনেকদিন পরে জনতার সামনে সাধু সাজার সুযোগ পেয়েছি মশাই সেটা অন্যদের ছেড়ে দিয়ে পরে পস্তাই আর কি.
হুমম. আচ্ছা দিদি সারদা কাণ্ডে আপনার দলের এইরকম করুণ অবস্থা কেন?
আরে এইসব নিষ্পাপ ছোকরারা সারদা শুনে ভেবেছে কোনো ধর্মকর্ম হবে হয়ত. খুব ধার্মিক তো এরা. বিরোধীদের চক্রান্ত নিশ্চয়ই.
হ্যাঁ বুঝতেই পারছি. অনেকটা বকধার্মিক আর কি. কিন্তু আপনি কিভাবে জড়ালেন এতে?
আরে ওই কুনালের পাল্লায় পড়ে. আমার শিল্পীসত্ত্বাকে লোভ দেখিয়ে দিল. বলল দিদি তোমার ছবি তো এমনিতে কেউ কেনেনা কিন্তু সুদীপ্ত ঠিক কিনবে আর প্রচুর পয়সা দেবে, আর সেই টাকায় অামরা ফুর্তি করা ছাড়াও অনেক গুন্ডা পুষতে পারব. সঙ্গে বহু উৎসব খ্যামটা নাচও করা যাবে.আর সুদীপ্ত টাকা দিতেই থাকবে বদলে সামান্যই কিছু সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দিতে হবে. ব্যস্ আর কি লোভে পড়ে গেলাম একটু. কিন্তু যখন নিজেদেরই বাঁশ (পুনরায় হাতের মুদ্রা সহযোগে) হয়ে গেলো তখন ওদেরকেই বলি কা বকরা বানিয়ে দিলাম. কিন্তু এখন কুণালকে আমরা দল থেকেই তাড়িয়ে দিয়েছি. তাই ওর কথার কোনো দাম নেই আর. আর ওকে আমরা পাগলও সাজিয়ে দিয়েছি. বাবাঃ নিশ্চিন্ত (হাঁফ ছেড়ে). আর আমার পুলিশদের বলে দিয়েছি ও যেন মুখ খুলতেই না পারে. পচা (পচনন্দা) আছে আমি যা বলি ও তাই করে দেয়. ভারী ভালো লোক. এই সবাই পচার জন্যে একবার হাততালি দিনতো. ওকে আমি প্রমোশন দিয়ে আমার পার্সোনাল বডিগার্ড বানিয়েছি.
আচ্ছা অনেক হলো তোমার ভাট. এতো কথা বলে আমিও ক্লান্ত. এবারে একটু বিনোদন হবে. এই যে ইন্দ্রনীল ঘুমিয়ে পড়লে নাকি. নাও একটা ঝিনচ্যাক গান ধর তো. বেশি প্যানপ্যান করোনা আবার. দেব এদিকে এস. একটা ভাল ড্যান্স দেখি ওই পাগলু ড্যান্সটা. ফালতু ফালতু তোমাকে মহানায়ক বানিয়েছি নাকি?
অতঃপর প্রশ্নকর্তাকে একধারে সরিয়ে স্টেজের উপরে দেবের নাচ এবং ইন্দ্রনীলের গান শুরু হলো. লে পাগলু ড্যান্স. পাশ থেকে দিদি মুখে মৃদুমন্দ হাসি নিয়ে তাল দিচ্ছেন আর থেকে থেকে বলে উঠছেন: এই আপনারা কেউ তাল দিচ্ছেন না কেন?
বেশ কিছুক্ষণ এইসব চলার পরে যখন সঞ্চালক ও প্রশ্নকর্তা দুজনেই এসে হাতজোড় করে দাঁড়ালেন তখন দিদি মায়াবশত কথা দিলেন এবারে চটজলদি শেষ করবেন. আবার শুরু হলো প্রশ্নোত্তর পর্ব.
আচ্ছা দিদি সারদা নিয়ে কথা হচ্ছিল. আগে তো CBI নিয়ে আপনারা খুব চাপে ছিলেন কিন্তু এখন তো আর তেমন শোরগোল শুনতে পাইনা.
হাহাহাহা. বাবুলকে ভেলপুরী আর নমোকে ইলিশ খাওয়ালাম কি আর সাধে নাকি?
একটা জিনিস আমার নিজের খুব জানতে ইচ্ছে করছে. মদনা তো জেলে কিন্তু আজ কিভাবে এখানে এলেন?
আরে জেলে মানে কি জেলখানায় নাকি. যত সব কুৎসা. ও জেলে মানে মাছ ধরে. পায়ে মাছের কাঁটা ফুটেছিল তাই কয়েকদিন হাসপাতালে আছে. আজ ওরা এই প্রোগ্রামের জন্যে হাফ ডে দিয়েছে.
ওহোহোহো খক্ খক্ খক্.প্রশ্নকর্তা আবার বিষম খেয়েছেন. নিজেকে সামলে প্রশ্ন করলেন. কিন্তু হাসপাতাল থেকে কিভাবে কাজ চলছে?
আরে দূর! ও তো পরিবহণ মন্ত্রী. ওর কাজ যানবাহন ঠিকঠাক চালানো. তা আমাদের রাজ্যে কোনোকিছুই ঠিকঠাক চলে নাকি যে কাজ চালাতে হবে হাসপাতাল থেকে?ও হাসপাতালে ইয়ার বন্ধু নিয়ে ফুর্তি করছে. ভালোই আছে. এই চেঞ্জটা দরকার ছিল ওর. কিন্তু কিছুতেই ছুটি হচ্ছেনা. আহারে বড্ড কষ্ট. কাতলা মাছের মতো শরীরটা শুকিয়ে পুঁটি মাছ হয়ে গেলো.
প্রশ্নকর্তার সঙ্গীন অবস্থা দেখে আবার দু মিনিটের বিজ্ঞাপন বিরতি নিতেই হলো. বিরতির পর আবার শুরু হলো প্রশ্নোত্তর. প্রশ্নকর্তা অনেকটাই সামলে উঠেছেন কিন্তু তবুও মনে হচ্ছে যেকোনো সময় অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন. মিনমিনে গলায় শুরু করলেন আবার.
আচ্ছা দিদি আপনিই বারবার বলেন যে কেন্দ্রের থেকে টাকা আসছেনা, রাজ্যের ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা. সরকারি কর্মচারীদের বেতন পর্যন্ত বাড়বাড়ন্ত. কিন্তু আপনার এতো উৎসব আর দান খয়রাতির টাকা আসে কোত্থেকে? যেমন, মাটি উৎসব আকাশ উৎসব বাতাস উৎসব...
শুনুন আসল কথা কেন্দ্র থেকে যথেষ্টই টাকা আসে কিন্তু আমরা খরচ করেই উঠতে পারিনা. মানে আমাদের কর্মীরা কতটা সৎ আশা করি অনুধাবন করতে পারছেন. কিন্তু আমরা কি নিজমুখে বলতে পারি যে টাকা খরচ হচ্ছে না?তাই ওইসব বলতেই হয় নাহলে ভোট পাব না. আর লোকের সহানুভূতি পাওয়াও বন্ধ হয়ে যাবে. ওইসব টাকা থেকেই এইসব খরচ করতে হয়. এতে লোকের দৃষ্টি আসল ব্যাপার থেকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে রাখা যায়. আর অবশ্যই ভোটে সুবিধে হয়. আমি তো পারলে সবাইকে কিছু না কিছু দিয়ে যেতে চাই, তখন সবাই আমাকে ভোট দেবে! এছাড়া সুদীপ্ত তো ছিলোই. লাগে টাকা দেবে সুদীপ্ত সেন.
কিন্তু কেন্দ্রকে এতো টাকার হিসেব দিতে হয় নিশ্চয়ই. সেটা কিভাবে ম্যানেজ করেন?
ওখানে দেখানো যায় যে বিবিধ খাতে টোটাল কতো খসেছে. ওইটা আমাদের সুবিধে করে দিয়েছে অনেক. জয় মা বিবিধর জয়.
তাহলে এই যে এতো হ্যান পুরস্কার ত্যান পুরস্কার, মায় KKR এর জন্য সোনার মেডেল, ইডেনে ধুমধাম নাচাগানা, বিভিন্ন ক্লাব ফাণ্ডে চাঁদা এগুলোও কি সব জয় মা বিবিধ?
তাছাড়া আবার কি? হিসেব মেলাতে হবে তো নাকি?
এবারে একটু বিনোদনের দিকে আসি যেটা আপনার সবচেয়ে প্রিয়. আমরা সবাই জানি আপনি নাকি ভালো ছবি আঁকেন.
হ্যাঁ নিজের মুখে বলতে চাই না. কিন্তু অনেক বড় বড় শিল্পীও আমার ছবি দেখে লজ্জা পাবেন. শুধু আঁচড় কেটে দি তিনটে, লাখ লাখ টাকায় বিক্রি হয়ে যায়. মুশকিল হচ্ছে আমি নিজেই বুঝতে পারি না কিসের ছবি আঁকলাম কারণ সবকটা ছবিতেই তো শুধু আঁচড়.
সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে ওখানকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গিফটও করেছেন আপনার আঁকা একটা ছবি?
হ্যাঁ. ওনার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রেহমানের ছবি. যদিও উনি প্রথমে ওটাকে নিমগাছের ছবি ভাবছিলেন. শুভাদা ওঁকে ভাল করে বুঝিয়ে দিলেন. এই শুভাদা আমার আঁকা সেই ছবিটা দেখাও তো.
বশংবদের মতো শুভাদা একটি ক্যানভাস দেখালেন উঁচু করে. জনতার মধ্যে মৃদু ফিসফাস শোনা গেলো: এটা তো সত্যিই নিমগাছ রে. দু একটি কুঁচোকাঁচা ওরে বাবারে মারে রাক্ষস খেয়ে ফেললো রে বলে ভয়ও পেলো বোধহয়.
এই ধরতো বুতরুগুলোকে. বার করে দে এখনই. আরে আপনারা হাঁ করে কি দেখছেন. ভালো বলুন!
ছেড়ে দিন এরা সব পোলাপান. আপনি তো আবার একাধারে কবি এবং লেখক ও. আপনার তো কবিতার বইও ছাপা হয়েছে. বোধহয় কথাঞ্জলি নামে একটি বই সদ্যই প্রকাশিত হয়েছে তাই না?
হ্যাঁ. আমার কবিতা পরে কিছু লোক হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে পর্যন্ত. এত উঁচুদরের জিনিস তো সবাই নিতে পারে না. শুনছি বাংলা ভাষাটাকেই নতুন করে লিখতে হচ্ছে. এমনই বৈপ্লবিক চিন্তাভাবনা আছে ওখানে. কথাঞ্জলি নামটা অবশ্য নিন্দুকেরা বলে ঝাড়া. কথামৃত আর গীতাঞ্জলি দুটোকে মিশিয়ে. এই আপনারা কিন্তু ওসবে কান দেবেন না. পড়ুন না পড়ুন বইটা কিনবেন. দুটো পয়সা ঘরে আসে তাহলে.
এতো লেখার সময় পান কি করে?
সময়ের অভাব আমার নেই. আরে রাজ্যের কাজ তো করা সব হয়েই গেছে. এই যে আপনার এখানে বসে ভাট মারছি সেতো আমার অঢেল সময় বলেই. অন্য কেউ হলে এতক্ষণ থাকতে পারতো নাকি?
একদম সত্যি কথা. তা আপনি এত ভালো লেখেন যখন আপনার নিশ্চয়ই সাহিত্য নিয়েই পড়াশোনা?
না আমি ইতিহাস নিয়ে পড়েছি. ওটাই আমার স্ট্রং সাব্জেক্ট.
বলেন কি? ইতিহাস?কিন্তু আপনি যে বলেছেন রাজা রামমোহন রায় আপনার বিধানসভায় বসে সতীদাহ প্রথা রদ করিয়েছিলেন. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফলের রস খাইয়ে গান্ধীজির অনশন ভঙ্গ করিয়েছেন. এবং রবীন্দ্রনাথ, কীটস ও উইলিয়াম শেক্সপিয়ার নাকি সমসাময়িক. এই সমস্ত তথ্য কোন ইতিহাসে পেয়েছেন আপনি?
আমি যথেষ্ট গবেষণা করেছি এইসব নিয়ে. আর এখন আমি বলেছি মানে এগুলোই এখন ইতিহাস হয়ে যাবে. আমি ইতিহাসের সব বই তে এগুলো ইনক্লুড করাব. দেখব কে আমাকে আটকায়. বইতে যা লেখা সেটা যে ঠিক আর আমি যা বলব সেটা যে ভুল তার কি প্রমাণ আছে. এগুলো আমি তো কথাঞ্জলিতেও ঢোকাবো. ইতিহাস বদলে দেবো.
বেশ বেশ ঢোকাবেন বইকি. আপনি শুনলাম কোন এক সভাতে সিধু কানু ডহর এই তিনজনকেই খুঁজছিলেন? এবং বারবার? ডহর মানে যে রাস্তা আপনি এটাও জানতেন না?
আলবৎ জানতাম.আমি জানিনা এরকম কোনো বিষয় এই পৃথিবীতে এখনও নেই. দেখছিলাম বাকি জনতার ইতিহাসের কতোদূর দৌড় (চোখ টিপলেন ছোট করে)
এত গেলো ইতিহাসের কথা. আর বাকি জেনারেল নলেজও কি খুব সুবিধার বলে আপনার মনে হয়?
একদম হান্ড্রেড পার্সেন্ট আপ্ টু ডেট্ আমি. একটা বইও লিখবো ঠিক করেছি. নাম সাধারণজ্ঞানাঞ্জলি. ওখানে আমার প্রচারিত বাণীগুলো থাকবে.
বটে?হান্ড্রেড পার্সেন্ট আপ্ টু ডেট্? আপনি যে বলেছিলেন পাকিস্তান নাকি বেঙ্গলের বর্ডার. কিভাবে এবং কেনো?
শুনুন মশাই. বাংলাদেশ জন্মাবার আগে ওটা পাকিস্তানই ছিল. আর সেইসময় আমাদের কলকাতায় চরম অরাজকতা. ওইসব নকশাল ফকশাল আর কি. তা আমার রাজ্যে আমি আবার চরম অরাজকতা আবার ফিরিয়ে এনেছি. সেইটে বোঝানোর জন্যই ওই উদাহরণ. অতি উচ্চস্তরের উদাহরণ. অনেকেই বুঝবে না.
আমার মনে হয় আপনি ছাড়া কেউই বোঝেনি. যাকগে আপনি তো রাকেশ রোশনকে চাঁদেও পাঠিয়েছেন শুনলাম. কিন্তু আমরা জানতাম রাকেশ শর্মাই প্রথম ভারতীয় মহাকাশচারি.
রাকেশ শর্মাটা আবার কোন শর্মা. বলি ও পার্থ বলে কিরে? তবে রোশনবাবুকে আমি পাঠাইনি. উনি নিজেই গেছিলেন. ওনার একটা ভিনগ্রহের প্রাণী দরকার ছিল. তো চাঁদে গিয়ে চাঁদু বলে কাকে একটা সঙ্গে করে নিয়ে এলেন. সিনেমার খাতিরে নামটা চেঞ্জ করে জাদু রেখে দিলেন. ঐতো আমাদের শ্রীকান্তও যাবে বলছে কিছুদিনের মধ্যেই. আমিও যেতে পারি কারণ অনেকেই বলছে আমি নাকি চন্দ্রাহত হয়েছি. মানেটা জানি না পরে দেখে নিতে হবে.
দুর্দান্ত ব্যাখ্যা. সোয়াইন ফ্লু নাকি মশা থেকে হয় আপনি এরকমও একটা দাবি রেখেছিলেন শুনলাম?
ওটা অপব্যাখ্যা হয়েছে. আমি বলতে চেয়েছিলাম সোয়াইন ফ্লু মশাদেরও হতে পারে. আহা বেচারারা মশা বলে কি মানুষ নয়?
মশাদের যে এই ফ্লুটা হতে পারে সেটাই বা আপনি কিভাবে জানলেন?
ধুত্তেরিকা. এতো কিছু মনে থাকে না মশাই. মাঝে মাঝে আমি এটাই ভুলে যাই যে আমি এখন মুখ্যমন্ত্রী. চুপ করুন তো মশাই বড্ড ছিদ্রান্বেষী আপনারা.
দিদি অশান্ত হয়ে উঠছেন দেখে ফের দু মিনিটের বিজ্ঞাপন বিরতি.
আপনি বলেছিলেন আপনার এত পরিশ্রম হয় যে আপনার পাল্স নাকি চুয়াল্লিশ. কিন্তু আপনি কি জানেন বিজ্ঞান কি বলে? কোনো মানুষের পাল্স পঞ্চাশের নিচে নেমে গেলে সে বেঁচে থাকতে পারে না. তা আপনি কিভাবে বেঁচে আছেন?
আমি মশাই ভগবানের একটা মার্কামারা সৃষ্টি. এই ধরাধামে মাত্র এক পীসই আছি. চুয়াল্লিশ কেনো চার পাল্সেও আমার কিছু হয়না. ওসব বিজ্ঞান ফিজ্ঞান আমাকে দেখাবেন না.
আপনাকে নাকি সমালোচনা সহ্য করতে দেখাই যায়না. আপনার সভায় একজন প্রশ্ন তুললে আপনি তাকে মাওবাদী বলে দেন. আপনাকে ছাত্ররা প্রশ্ন করলে আপনি উঠে চলে যান. এরকম কেন?
ওগুলো প্লান্ট করা cpm এর. পচাকে বলেছি ইনভেস্টিগেট করতে. নাহলে এমনিতে আমি খুবই শান্ত.
আচ্ছা তাহলে শুনুন. আপনি যখন এতই শান্ত. আমরা দর্শকদের মধ্যে একটা campaign চালিয়েছিলাম. তাতে আপনার চরিত্র সম্বন্ধে জনগণের মত হচ্ছে আপনি খামখেয়ালি একগুঁয়ে অসহিষ্ণু একনায়িকাতন্ত্রী আর অদূরদর্শী.....
ওই ব্যাটা থাম এবারে. অনেক হয়েছে. বললাম না আমার সমালোচনা পছন্দ না একদম.
ঠিক আছে ঠিক আছে আর মাথা গরম করবেন না. এই নিন বরফ. মাথায় লাগান, আমরা আগে থেকেই ব্যবস্থা রেখেছি.
না অনেকক্ষণ ধরে সহ্য করছি আপনার ভাট. এই মদনা মুকুল আয় তো এদিকে. ওই পার্থ জাপটে ধর তো ব্যাটাকে. পচা এস এদিকে. এ ব্যাটা নির্ঘাত মাওবাদী কিম্বা বিরোধীদের চক্রান্ত. ঢোকাও ওকে জেলে..তারপর মগজ ধোলাই করব কেমন দেখো. এই এই ক্যামেরা নামান তো. দেখাচ্ছি মজা. এই তাপস তোমার ছেলেগুলোকে এর পেছনে লাগাও তো. ববি ওই দেখ ডিরেক্টর পালাচ্ছে ল্যাং মার ওকে....
সব জিনিস ভাঙচুর শুরু হলো, যে যেদিকে পারছে পালাচ্ছে. পুরো chaos.
আমাদের ইন্টারভিউও শেষ.
যবনিকা পতন.